জাতীয় সঙ্গীত
Date Time

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

কিশোরগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত মিঠামইন একটি অবহেলিত, শিক্ষাবঞ্চিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদ। ১৯৮৩ সালের ৭ই নভেম্বর ইটনার তিনটি ইউনিয়ন ও নিকলির তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে নবগঠিত মিঠামইন উপজেলার যাত্রা শুরু হয়। উল্লেখ্য যে প্রত্যন্ত এই মিঠামইন উপজেলা শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে ছিল। উপজেলা সদরে একটিমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য আলাদা কোন সুযোগ ছিল না। মিঠামইন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি শ্রেণিতে দুই জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও এসএসসি পর্যন্ত যেতে পারত না। মিঠামইন উপজেলার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল হক নুরু মিঠামইন উপজেলায় নারীশিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ে মতবিনিময় করলে সকলে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মিঠামইন উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আবদুল গণি সাহেবের কার্যালয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক  সভায় মিঠামইন উপজেলা সদরে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

উক্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপস্থিত সকলে একমত পোষণ করে দ্রুত একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য জনাব মোঃ আবদুল হক নুরুকে  অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে জনাব মোঃ আবদুল হক তাঁর বড় ভাই-বোনদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদ মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে পারিবারিকভাবে তাঁদের ‘মা’-এর নামে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তারপর ১৯৮৪ সালের ২৭ শে নভেম্বর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রয়াত প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম, এ গণি সাহেবের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচনান্তে ও সর্বসম্মতিক্রমে  ‘তমিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে একটি নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বিদ্যালয় স্থাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য জনাব মোঃ আবদুল হককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হলে মিঠামইন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে ১৯৮৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ১৭ জন ছাত্রী, ৬ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী নিয়ে ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাদান কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৮৫ সালের ১৫ই ডিসেম্বর নি¤œমাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে প্রথম স্বাকৃতি লাভ করে। ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি  তার নিজস্ব স্থানে স্থানান্তর করা হয় এবং একটি বাঁশের তরজার বেড়া দেয়া টিনের চালাঘরে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে ৬ জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬ জনই ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়টি অবহেলিত হাওর এলাকায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষাবঞ্চিত নারী সমাজের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের কার্যক্রম সুনাম ও সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে এবং নারীশিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অত্র উপজেলার একটি সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদ মহোদয়ের উদ্যোগে, আন্তরিক প্রচেষ্টায় উপজেলার একমাত্র মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হিসেবে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি সার্বিক উন্নয়নে যাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন এবং এখনও রেখে যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদ, মরহুম এম. এ. গণি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামরুল আহ্সান শাহজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মোঃ জিল্লুর রহমান, আলহাজ্ব আছিয়া আলম, মরহুম মোঃ আবদুল হাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুস সাহিদ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম রতন, জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান (প্রাঃ শিঃ), জনাব আহাম্মদ আলী চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. ফরিদ আহম্মদ, মোঃ শাহ্জাহান মিয়া (সহঃ প্রঃ শিঃ) ও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়নে আরও যাঁরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন তাঁরা হলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, বর্তমান সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক আবেদা আক্তার জাহানের নেতৃত্বে শিক্ষকম-লী ও কর্মচারীবৃন্দ, এড. মোঃ শরীফ কামাল, চেয়ারম্যান মিঠামইন ইউপি, জেলা পরিষদ সদস্য, বাবু সমীর কুমার বৈষ্ণব। বিদ্যালয়ের  বর্তমান প্রধান শিক্ষক জনাব আবেদা আক্তার জাহান ১৯৯৬ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে অদ্যাবধি নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। তাঁরই সুযোগ্য  নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত হয়েছে এবং ২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আবদুল হক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিরলসভাবে শ্রম ও মেধা খাটিয়ে সম্পূর্ণ বৈরী পরিবেশে বিদ্যালয়ের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগীতায় তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন নিজের ‘মা’-এর নামে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি – দাঁড় করিয়েছেন একটি স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে। এলাকায় নারীশিক্ষায় তথা শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে জনাব মোঃ আবদুল হক নূরুর অসামান্য অবদানের কথা এলাকাবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

আমাদের কথা

একটি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি জাতির আত্মোন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ। একটি যথার্থ বিদ্যালয়ই পারে জাতির মানুষ তৈরির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে।বিদ্যালয় হচ্ছে মানুষের জীবন গড়ে দেওয়ার কারিগর। কারণ আমরাই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গত যোগ্যতা লাভ করি। এই জীবনে যারা বিদ্যালয়ের পথ হারিয়ে যায় তারা কখনোই তাদের জীবনের সঠিক পথ খুঁজে পায়না। যদি আপনার কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকে তাহলে আপনি এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবেন না। বিদ্যালয় থেকে আপনি যে জ্ঞান পাবেন আপনি সাধারন জায়গা থেকে সেই জ্ঞান পাবেন না। বিদ্যালয়ে গিয়ে শুধু যে আমরা বই থেকে শিখি তা নয় বিদ্যালয় গেলে আমরা আমাদের বর্তমান জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখি। বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলে যে কয়টি বিদ্যালয় এই মহান দায়িত্বকে মাথা পেতে নিয়েছে ধলাই-বগাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় তার মধ্যে একটি।ধলাই-বগাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিভাগ কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামেইন উপজেলাধীন ধলাই-বগাদিয়া গ্রামে অবস্থিত। ধলাই-বগাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। * নৈতিক ও মূল্যবোধভিক্তিক শিক্ষার প্রসার; * চাহিদা মাফিক ও চাকুরির যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষা; * পাঠ্যক্রম-এর আধুনিকায়ন * সকল স্তরে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়ন; * তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদারকরণ; * সকল স্তরে শিক্ষকদের কাযকারিতা নিশ্চিতকরণ; * জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণ।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

একটি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি জাতির আত্মোন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ। একটি যথার্থ বিদ্যালয়ই পারে জাতির মানুষ তৈরির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে। বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলে যে কয়টি বিদ্যালয় এই মহান দায়িত্বকে মাথা পেতে নিয়েছে ধলাই-বগাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় তার মধ্যে একটি।ধলাই-বগাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিভাগ কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামেইন উপজেলাধীন ধলাই-বগাদিয়া গ্রামে অবস্থিত। এই স্কুলটির বীজ সর্বপ্রথম প্রোথিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে । পরবর্তীতে ২০০০ সালে স্কুল এর ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাপদ্ধতি, নিয়মশৃঙ্খলা পরিদর্শন করে পাঠদানের অনুমতি দেন এবং ২০০৩ সালে স্কুলটি নিম্মা মাধ্যমিক পর্যায় একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০০৪ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভূক্ত হয় এবং ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে একাডেমিক অনুমতি পেয়ে ২০১৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। ২০২২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভূক্ত হয়ে সুনামের সাথে বিদ্যালয়টি গ্রণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা ও ক্যারিকুলাম মেনে শিক্ষার উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচেছ। ধলাই-বগাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। * নৈতিক ও মূল্যবোধভিক্তিক শিক্ষার প্রসার; * চাহিদা মাফিক ও চাকুরির যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষা; * পাঠ্যক্রম-এর আধুনিকায়ন * সকল স্তরে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়ন; * তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদারকরণ; * সকল স্তরে শিক্ষকদের কাযকারিতা নিশ্চিতকরণ; * জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণ।